কুরআনে نَصَرَ ফ্যামিলির ২৬টি বহুল ব্যবহৃত ফি’ল

এখানে দুটি তালিকা রয়েছে, যেখানে نَصَرَ ফ্যামিলির ২৬টি নিয়মিত ক্রিয়া/ফি’ল রয়েছে। এই ২৬টি ক্রিয়া কুরআনে বিভিন্ন রূপে মোট ২৩৬০ বার ব্যবহৃত হয়েছে। আসুন আমরা ধীরে ধীরে, আমাদের নিজস্ব গতিতে একটু একটু করে ক্রিয়া/ফি’লগুলোর সাথে পরিচিত হই ।

বাংলা অর্থمَفْعُولفَاعِلٌالنَّهْيُالْأَمْرُالْمُضَارِعالْمَاضِي
সাহায্য করাمَنْصُورٌنَاصِرٌلَا تَنْصُرْاُنْصُرْيَنْصُرُنَصَرَ
পৌঁছানোمَبْلُوغٌبَالِغٌلَا تَبْلُغْاُبْلُغْيَبْلُغُبَلَغَ
বিস্তৃত করাمَبْسُوطٌبَاسِطٌلَا تَبْسُطْأَبْسِطْيَبْسُطُبَسَطَ
ত্যাগ করাمَتْرُوكٌتَارِكٌلَا تَتْرُكْاُتْرُكْيَتْرُكُتَرَكَ
একত্রিত করাمَحْشُورٌحَاشِرٌلَا تَحْشُرْاُحْشُرْيَحْشُرُحَشَرَ
বিচার করাمَحْكُومٌحَاكِمٌلَا تَحْكُمْاُحْكُمْيَحْكُمُحَكَمَ
বের হওয়াمَخْرُوجٌخَارِجٌلَا تَخْرُجْاُخْرُجْيَخْرُجُخَرَجَ
চিরকাল
অবস্থান করা
مَخْلُودٌخَالِدٌلَا تَخْلُدْاُخْلُدْيَخْلُدُخَلَدَ
সৃষ্টি করাمَخْلُوقٌخَالِقٌلَا تَخْلُقْأَخْلِقْيَخْلُقُخَلَقَ
প্রবেশ করাمَدْخُولٌدَاخِلٌلَا تَدْخُلْاُدْخُلْيَدْخُلُدَخَلَ
স্মরণ করাمَذْكُورٌذَاكِرٌلَا تَذْكُرْأُذْكُرْيَذْكُرُذَكَرَ
রিজিক দেওয়াمَرْزُوقٌرَازِقٌلَا تَرْزُقْاُرْزُقْيَرْزُقُرَزَقَ
সিজদা করাمَسْجُودٌسَاجِدٌلَا تَسْجُدْاُسْجُدْيَسْجُدُسَجَدَ
বাংলা অর্থمَفْعُولفَاعِلٌالنَّهْيُالْأَمْرُالْمُضَارِعالْمَاضِي
উপলব্ধি করাمَشْعُورٌشَاعِرٌلَا تَشْعُرْاُشْعُرْيَشْعُرُشَعَرَ
কৃতজ্ঞ হওয়াمَشْكُورٌشَاكِرٌلَا تَشْكُرْاُشْكُرْيَشْكُرُشَكَرَ
সত্য বলাمَصْدُوقٌصَادِقٌلَا تَصْدُقْاُصْدُقْيَصْدُقُصَدَقَ
ইবাদত করাمَعْبُودٌعَابِدٌلَا تَعْبُدْاُعْبُدْيَعْبُدُعَبَدَ
সীমালঙ্ঘন করাمَفْسُوقٌفَاسِقٌلَا تَفْسُقْاُفْسُقْيَفْسُقُفَسَقَ
হত্যা করাمَقْتُولٌقَاتِلٌلَا تَقْتُلْاُقْتُلْيَقْتُلُقَتَلَ
বসাمَقْعُودٌقَاعِدٌلَا تَقْعُدْاُقْعُدْيَقْعُدُقَعَدَ
লিখাمَكْتُوبٌكَاتِبٌلَا تَكْتُبْأُكْتُبْيَكْتُبُكَتَبَ
গোপন রাখাمَكْتُومٌكَاتِمٌلَا تَكْتُمْاُكْتُمْيَكْتُمُكَتَمَ
অবিশ্বাস করাمَكْفُورٌكَافِرٌلَا تَكْفُرْاُكْفُرْيَكْفُرُكَفَرَ
ষড়যন্ত্র করাمَمْكُورٌمَاكِرٌلَا تَمْكُرْاُمْكُرْيَمْكُرُمَكَرَ
তাকানোمَنْظُورٌنَاظِرٌلَا تَنْظُرْاُنْظُرْيَنْظُرُنَظَرَ
নিশ্বাস নেওয়াمَنْفُوخٌنَافِخٌلَا تَنْفُخْاُنْفُخْيَنْفُخُنَفَخَ

চলুন ! একটি গল্পের মাধ্যমে শব্দগুলো পুনরালোচনা করি।

রায়হান ছিল এক মুসলিম পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় সে নিয়মিত নামাজ পড়ত, ভালো কাজ করত। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে সে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে যায়। সে ধীরে ধীরে ইবাদত ত্যাগ করে (تَرَكَ), সিজদা (سَجَدَ) বিমুখ হয়ে দুনিয়ার মোহে হারিয়ে যায়।

তার জীবনে ছিল না কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য। সে শুধু চাইত অর্থ, নাম, খ্যাতি। মানুষকে ধোঁকা দিত, সত্য গোপন করত (كَتَمَ), অবিশ্বাসে ডুবে থাকতো (كَفَرَ), সীমা লঙ্ঘন করত (فَسَقَ) এবং চক্রান্ত করত (مَكَرَ) । তার সময় কাটত নিষিদ্ধ কামনা-বাসনায় এবং অসুস্থ কল্পনায় । হারাম জিনিসের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে (نَظَرَ) সে আল্লাহর স্মরণ (ذَكَرَ) ভুলে গিয়েছিল

তার জীবনে এক সময় এমন পর্যায় এলো যখন সে অপরকে হত্যার (قَتَلَ) মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল— যদিও সেটা বাস্তবে ঘটেনি কিন্তু চিন্তাতেই সে এতো নিচে নেমে গিয়েছিল।

একদিন সে এক ইসলামি আলোচনা সভায় অংশ নেয়। সেখানে বক্তা বলছিলেন —আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, তাকে অফুরন্ত রিজিক দেন (رَزَقَ), হিদায়াত দান করেন এবং তাঁর রহমতের দরজায় প্রবেশ করান (دَخَلَ)। কিন্তু কেউ যদি গুনাহের মধ্যে লিপ্ত থাকে এবং তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে না আসে, তবে সে ধীরে ধীরে হিদায়াতের পথ থেকে বেরিয়ে যায় (خَرَجَ) এবং চূড়ান্ত ক্ষতিতে নিপতিত হয়।

এই কথা শুনে রায়হানের অন্তর ভেঙে পড়ল । তার ভেতরে যেন কোনো কিছু উপলব্ধি হলো (شَعَرَ) — এমন গভীর উপলব্ধি, যা আগে কখনো হয়নি।

সে নিজের ভেতরের শূন্যতাগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখল (كَتَبَ)। সেই রাতে সে আল্লাহর সামনে নত হয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল (سَجَدَ) এবং বলল, “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন (خَلَقَ)। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। আমি আপনার দিকে ফিরে আসতে চাই, আপনার রহমতের জান্নাতে চিরকাল থাকতে চাই (خَلَدَ)।”

এরপর থেকে রায়হান বদলে যায়। সে নিজের ভুল বুঝে সত্য স্বীকার করে (صَدَقَ) এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে (شَكَرَ)।
সে শুধু নিজেই বদলায়নি, বরং অন্যদের সাহায্য করে (نَصَرَ), উপদেশ দেয় (ذَكَرَ) এবং দ্বীনের দাওয়াত ব্যপকভাবে প্রচার করে (بَسَطَ)।

সে বলে, “আমি অনেক দূর পৌঁছাতে চেয়েছিলাম (بَلَغَ) কিন্তু ভুল পথে। এখন আমি জানি, প্রকৃত সফলতা হলো — আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদতের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করা (دَخَلَ)।”

রায়হান এখন প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ইবাদত করে (عَبَدَ) এবং বলে —“হে আল্লাহ ! আমাকে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদেরকে আপনি একত্র করবেন (حَشَرَ)বিচারের দিনে, যারা আপনার পক্ষ থেকে সহজ বিচার পাবেন (حَكَمَ), এবং জান্নাতে চিরকাল অবস্থান করবেন (خَلَدَ)।”

নৈতিক শিক্ষা:

পৃথিবীর আসল সফলতা সম্পদ বা খ্যাতিতে নয়—বরং আল্লাহর পথে ফিরে আসা, সত্য গ্রহণ করা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া, এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য জীবন গড়ে তোলাতেই রয়েছে প্রকৃত মুক্তি।

চলুন ! আমরা এখন উপরের শব্দগুলোর উপর একটি কুইজ সমাধান করি ইন শা আল্লাহ।

১. নিশ্বাস নেওয়া →
ক) نَصَرَ
খ) نَفَخَ
গ) دَخَلَ
ঘ) صَدَقَ

২. চক্রান্ত করা →
ক) مَكَرَ
খ) كَتَبَ
গ) قَتَلَ
ঘ) نَظَرَ

৩. সত্য বলা →
ক) صَدَقَ
খ) شَعَرَ
গ) قَعَدَ
ঘ) شَكَرَ

৪. সিজদা করা →
ক) صَبَرَ
খ) عَبَدَ
গ) سَجَدَ
ঘ) خَلَقَ

৫. হত্যা করা →
ক) خَرَجَ
খ) قَتَلَ
গ) رَزَقَ
ঘ) فَسَقَ

৬. লেখা →
ক) كَتَبَ
খ) كَفَرَ
গ) كَتَمَ
ঘ) قَعَدَ

৭. বসা →
ক) قَعَدَ
খ) خَلَدَ
গ) حَكَمَ
ঘ) كَتَبَ

৮. স্মরণ করা →
ক) نَفَعَ
খ) ذَكَرَ
গ) فَسَقَ
ঘ) دَخَلَ

৯. সৃষ্টি করা →
ক) خَلَقَ
খ) خَرَجَ
গ) شَكَرَ
ঘ) قَتَلَ

১০. চিরকাল অবস্থান করা →
ক) خَلَقَ
খ) قَتَلَ
গ) خَلَدَ
ঘ) شَعَرَ

১১. পৌঁছানো →
ক) نَصَرَ
খ) بَلَغَ
গ) كَتَبَ
ঘ) صَدَقَ

১২. সীমালঙ্ঘন করা →
ক) قَتَلَ
খ) عَبَدَ
গ) فَسَقَ
ঘ) شَكَرَ

১৩. গোপন রাখা →
ক) كَتَمَ
খ) كَتَبَ
গ) مَكَرَ
ঘ) قَتَلَ

১৪. বিচার করা →
ক) نَظَرَ
খ) حَكَمَ
গ) خَلَدَ
ঘ) دَخَلَ

১৫. তাকানো →
ক) نَظَرَ
খ) ذَكَرَ
গ) كَفَرَ
ঘ) بَسَطَ

১৬. রিজিক দেওয়া →
ক) بَلَغَ
খ) خَرَجَ
গ) رَزَقَ
ঘ) قَتَلَ

১৭. ত্যাগ করা →
ক) نَفَعَ
খ) تَرَكَ
গ) ذَكَرَ
ঘ) خَلَقَ

১৮. ইবাদত করা →
ক) عَبَدَ
খ) صَدَقَ
গ) خَرَجَ
ঘ) كَتَبَ

১৯. অনুভব করা →
ক) نَظَرَ
খ) شَعَرَ
গ) قَعَدَ
ঘ) خَلَقَ

২০. প্রবেশ করা →
ক) خَرَجَ
খ) دَخَلَ
গ) كَفَرَ
ঘ) رَزَقَ


উত্তর তালিকা:

১. খ) نَفَخَ২. ক) مَكَرَ৩. ক) صَدَقَ৪. গ) سَجَدَ
৫. খ) قَتَلَ৬. ক) كَتَبَ৭. ক) قَعَدَ৮. খ) ذَكَرَ
৯. ক) خَلَقَ১০. গ) خَلَدَ১১. খ) بَلَغَ১২. গ) فَسَقَ
১৩. ক) كَتَمَ১৪. খ) حَكَمَ১৫. ক) نَظَرَ১৬. গ) رَزَقَ
১৭. খ) تَرَكَ১৮. ক) عَبَدَ১৯. খ) شَعَرَ২০. খ) دَخَلَ
error: Content is protected !!
Scroll to Top