ফ্যামিলি -২ : عَلَّمَ (শিক্ষা দেয়া)
এখানে عَلَّمَ ফ্যামিলির ২০টি নিয়মিত ক্রিয়া/ফি’ল রয়েছে। এই ২০টি ক্রিয়া কুরআনে বিভিন্ন রূপে মোট ৮৩২ বার ব্যবহৃত হয়েছে। আসুন আমরা ধীরে ধীরে, আমাদের নিজস্ব গতিতে একটু একটু করে ক্রিয়া/ফি’লগুলোর সাথে পরিচিত হই ।
مَفْعُول | فَاعِلٌ | النَّهْيُ | الْأَمْرُ | الْمُضَارِع | الْمَاضِي | |
---|---|---|---|---|---|---|
বাংলা অর্থ | কর্ম | কর্তা | নিষেধবাচক | আদেশবাচক | বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল | অতীত কাল |
শিক্ষা দেওয়া | مُعَلَّمٌ | مُعَلِّمٌ | لَا تُعَلِّمْ | عَلِّمْ | يُعَلِّمُ | عَلَّمَ |
পরিবর্তন করা | مُبَدَّلٌ | مُبَدِّلٌ | لَا تُبَدِّلْ | بَدِّلْ | يُبَدِّلُ | بَدَّلَ |
সুসংবাদ দেওয়া | مُبَشَّرٌ | مُبَشِّرٌ | لَا تُبَشِّرْ | بَشِّرْ | يُبَشِّرُ | بَشَّرَ |
স্পষ্ট করা | مُبَيَّنٌ | مُبَيِّنٌ | لَا تُبَيِّنْ | بَيِّنْ | يُبَيِّنُ | بَيَّنَ |
হারাম করা | مُحَرَّمٌ | مُحَرِّمٌ | لَا تُحَرِّمْ | حَرِّمْ | يُحَرِّمُ | حَرَّمَ |
স্মরণ করানো | مُذَكَّرٌ | مُذَكِّرٌ | لَا تُذَكِّرْ | ذَكِّرْ | يُذَكِّرُ | ذَكَّرَ |
সাজানো | مُزَيَّنٌ | مُزَيِّنٌ | لَا تُزَيِّنْ | زَيِّنْ | يُزَيِّنُ | زَيَّنَ |
প্রশংসা করা | مُسَبَّحٌ | مُسَبِّحٌ | لَا تُسَبِّحْ | سَبِّحْ | يُسَبِّحُ | سَبَّحَ |
নিয়ন্ত্রণে আনা | مُسَخَّرٌ | مُسَخِّرٌ | لَا تُسَخِّرْ | سَخِّرْ | يُسَخِّرُ | سَخَّرَ |
সত্য বলে ঘোষণা করা | مُصَدَّقٌ | مُصَدِّقٌ | لَا تُصَدِّقْ | صَدِّقْ | يُصَدِّقُ | صَدَّقَ |
পরিশুদ্ধ করা | مُطَهَّرٌ | مُطَهِّرٌ | لَا تُطَهِّرْ | طَهِّرْ | يُطَهِّرُ | طَهَّرَ |
শাস্তি দেওয়া | مُعَذَّبٌ | مُعَذِّبٌ | لَا تُعَذِّبْ | عَذِّبْ | يُعَذِّبُ | عَذَّبَ |
ব্যাখ্যা করা | مُفَصَّلٌ | مُفَصِّلٌ | لَا تُفَصِّلْ | فَصِّلْ | يُفَصِّلُ | فَصَّلَ |
নির্ধারণ করা | مُقَدَّرٌ | مُقَدِّرٌ | لَا تُقَدِّرْ | قَدِّرْ | يُقَدِّرُ | قَدَّرَ |
অগ্রে পাঠানো / সামনে পাঠানো | مُقَدَّمٌ | مُقَدِّمٌ | لَا تُقَدِّمْ | قَدِّمْ | يُقَدِّمُ | قَدَّمَ |
কাউকে মিথ্যাবাদী বলা | مُكَذَّبٌ | مُكَذِّبٌ | لَا تُكَذِّبْ | كَذِّبْ | يُكَذِّبُ | كَذَّبَ |
প্রত্যাখ্যান করা / মিথ্যা বলা | مُكَفَّرٌ | مُكَفِّرٌ | لَا تُكَفِّرْ | كَفِّرْ | يُكَفِّرُ | كَفَّرَ |
কথা বলা | مُكَلَّمٌ | مُكَلِّمٌ | لَا تُكَلِّمْ | كَلِّمْ | يُكَلِّمُ | كَلَّمَ |
উপভোগ করানো | مُمَتَّعٌ | مُمَتِّعٌ | لَا تُمَتِّعْ | مَتِّعْ | يُمَتِّعُ | مَتَّعَ |
অবতরণ করানো / নাজিল করা | مُنَزَّلٌ | مُنَزِّلٌ | لَا تُنَزِّلْ | نَزِّلْ | يُنَزِّلُ | نَزَّلَ |
- الماضي /অতীত কাল/Perfect : এমন ক্রিয়া যা অতীতে সংঘটিত হয়েছে।
- المضارع/বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল/Imperfect : এমন ক্রিয়া যা বর্তমানে হচ্ছে বা ভবিষ্যতে হতে পারে।
- الأمر /আদেশবাচক/Command: অন্য কাউকে কোনো কাজ করতে বলার জন্য ব্যবহৃত ক্রিয়া।
- النهي/নিষেধবাচক/Forbid: কাউকে কোনো কাজ করতে নিষেধ করার জন্য ব্যবহৃত ক্রিয়া (যেমন: “করো না”)।
- فاعلٌ/কর্তা/Subject/Doer : যে কাজটি করে, অর্থাৎ ক্রিয়ার কর্তা।
- مفعولٌ/কর্ম/Object: যার ওপর কাজটি সম্পাদিত হয়, অর্থাৎ ক্রিয়ার বস্তু।
চলুন ! একটি গল্পের মাধ্যমে শব্দগুলো পুনরালোচনা করি।
গোনাহ থেকে হেদায়াতের পথে
ইমরান নামের এক যুবক ছিল, যে ছোটবেলা থেকেই দুনিয়াবি ভোগ-বিলাসে ডুবে ছিল। সে আল্লাহর হুকুম অস্বীকার করেছিল (كَفَّرَ) এবং পাপ কাজকে নিজের জীবন বলে মেনে নিয়েছিল।
তার জন্য আল্লাহ অনেক কিছু উপভোগের ব্যবস্থা করেছিলেন (مَتَّعَ), কিন্তু সে কখনোই কৃতজ্ঞ হয়নি। সে মিথ্যার পেছনে দৌড়েছে, ভালো লোকদের মিথ্যাবাদী বলেছে (كَذَّبَ) এবং কুরআনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়েছিল।
একদিন, একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে ইমরান। সে তখনই বুঝতে পারে যে আল্লাহ চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন (عَذَّبَ), আর আল্লাহ তার জন্য যা কিছু নির্ধারণ করেছেন (قَدَّرَ), তা কেউ ঠেকাতে পারবে না।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে, তার হৃদয়ে পরিবর্তন আসে। সে নিজেকে পরিশুদ্ধ করল (طَهَّرَ), অতীতের জীবন নিয়ে আফসোস করল এবং নিজের ভুল স্বীকার করে সত্য ঘোষণা করল (صَدَّقَ)। সে তার গুনাহগুলোকে সৎকাজে পরিবর্তন করার (بَدَّلَ) পাকা নিয়ত করলো ।
এরপর, সে একজন আলেমের কাছে গেল, যিনি তাকে কুরআনের আয়াত শেখালেন (عَلَّمَ) এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য স্পষ্ট করলেন (بَيَّنَ)। আলেম বললেন, “আল্লাহ পাপের কাজগুলো তোমার জন্য হারাম করেছেন (حَرَّمَ), কিন্তু তুমি সেই নিষিদ্ধ কাজগুলোকেই ভালবেসেছিলে। এখন সময় হয়েছে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার।”
তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ কুরআন অবতরণ করেছেন (نَزَّلَ) যেন তুমি সঠিক পথ পেতে পারো।” এবং তিনি তাকে স্মরণ করালেন (ذَكَّرَ) আল্লাহর গজব ও রহমতের কথা, এবং তাওবার গুরুত্ব।
তিনি বললেন, “যদি তুমি তাওবা করো, আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন (بَشَّرَ)।”
ইমরান কেঁদে ফেলল এবং সে আল্লাহর কাছে দোয়া করল, যেন তার নফস আল্লাহর ইবাদতের জন্য নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায় (سَخَّرَ)।
পরবর্তীতে সে নিজেকে সুন্দরভাবে সাজালো (زَيَّنَ), মসজিদে গেল, নামাজ পড়তে শুরু করল এবং নিজের কাজের মাধ্যমে সবসময় আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করতে (سَبَّحَ) লাগলো ।
একদিন সে গ্রামের মানুষদের ডেকে বলল, “আল্লাহ আমাকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন (كَلَّمَ) যাতে আমি তোমাদের এই সত্য কথা পৌঁছে দিতে পারি।”
সে বলল, “আমরা যদি চাই, আমরাও সামনে এগিয়ে যেতে পারি। তাই আমি চাই তোমরা সৎকাজের জন্য একসাথে সামনে এগিয়ে যাও (قَدَّمَ)।”
সেই থেকে ইমরান নিজেকে একজন দাঈ হিসেবে গড়ে তোলে, যে মানুষের মাঝে আল্লাহর নিদর্শন ব্যাখ্যা করত (فَصَّلَ) এবং সবাইকে তাওবার পথে অনুপ্রাণিত করত।।
চলুন ! আমরা এখন উপরের শব্দগুলোর উপর একটি কুইজ সমাধান করি ইন শা আল্লাহ।
কুইজ:
আপনারা যদি হার্ড কপি থেকে পড়তে পছন্দ করেন, তাহলে “কুরআনের শব্দাবলি – ১-২ একত্রে” বইটি কালেক্ট করে নিতে পারেন।